পিতা-মাতা/অভিভাবকের জ্ঞাতব্য :
১. পরিবারই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই শিশুর মনে সামাজিকতার ভিত্তি স্থাপিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক বিকাশও শুরু হয় এই স্তর থেকেই। ফলে আপনার সন্তানের সার্বিক উন্নতিকল্পে আপনার সহযোগিতাই সর্বাপেক্ষা মুখ্য। আমরা শুধু আপনাদের ঐকান্তিক সহযোগিতাকে সম্বল করে আপনার সন্তান বা প্রতিপাল্যকে জ্ঞানে, গুণে, গরিমায় প্রদীপ্ত ও নৈতিক চরিত্র-সমৃদ্ধ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত।
২. আপনার সন্তান যেন নিয়মিত ব্যাজ পরিধান ও পরিচয়পত্র বহন করে প্রতিষ্ঠানে আসে তা নিশ্চিত করবেন।
৩. বাড়ির কাজ বা প্রতিদিনের নির্দেশিত কাজ আপনার সন্তান নিয়মিত অনুসরণ করছে কি না সে ব্যাপারে আপনার উদ্যোগী ভূমিকার বিকল্প নেই।
৪. আপনার কোনো বক্তব্য বা সদুপদেশ থাকলে তা ডায়েরিতে লিখে শ্রেণিশিক্ষক/বিষয়শিক্ষককে অবহিত করতে পারেন।
৫. কোনো বিষয়ের অস্পষ্টতা নিরসনের জন্য নির্ধারিত সময়ে নোটিশ বোর্ড দেখা, অফিসে অনুসন্ধান করা বা সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
৬. কোনো অভিভাবক/আগন্তুকের কোনো ক্লাসে যাওয়া/করিডোরে হাঁটাহাঁটি করা, শিক্ষককক্ষে গমনাগমন, ক্যান্টিনে অবস্থান অনাকাক্সিক্ষত।
৭. ছাত্র/ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে পৌঁছে দিয়ে অভিভাবকগণ প্রস্থান করবেন এবং ছুটির ১০ মিনিট পূর্বে এসে গেট থেকে নিজ নিজ পোষ্যকে নিয়ে যাবেন।
৮. বিশেষ প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে শিক্ষক/শিক্ষিকা/শিফ্ট ইন-চার্জ/উপাধ্যক্ষ/অধ্যক্ষের সাথে দেখা করা যাবে।
৯. যে সকল ছাত্রছাত্রী ‘বাসে’ যাতায়াত করে তাদের নিজ দায়িত্বে অভিভবকগণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে বাসে তুলে দেবেন এবং যথাসময়ে গ্রহণ করবেন। কোনো অভিভাবক ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন না।
১০. নির্ধারিত সময়সূচি ব্যতীত/জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত অধ্যক্ষের সাথে সাক্ষাৎ নিষ্প্রয়োজন। শিফ্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
১১. নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীর বেতন/অন্যান্য ফিস পরিশোধ করবেন।
১২. প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে যে কোনো রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা/অনাকাক্সিক্ষত তৎপরতা ও ধূমপান পরিহার্য।
১৩. প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয় এমন কোনো কাজে অংশগ্রহণ করা বা ইন্ধন জোগানো থেকে বিরত থাকবেন। প্রয়োজনে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।
১৪. অভিভাবককে অবশ্যই অভিভাবকসভায় উপস্থিত থাকতে হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশ :
১. প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীকে যথাযথ ইউনিফর্মে প্রতিষ্ঠানে আসতে হবে।
২. প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে প্রদর্শিত অবস্থায় রাখতে হবে।
৩. পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো ছাত্র/ছাত্রী অনুপস্থিত থাকলে, উপযুক্ত করণসহ অভিভাবকের স্বাক্ষর সংবলিত আবেদনপত্র উপস্থিত হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে শ্রেণিশিক্ষকের নিকট জমা দিতে হবে।
৪. বাসে যাতায়াতকারী ছাত্র/ছাত্রীকে ‘বাস কার্ড’ সঙ্গে রাখতে হবে।
৫.এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দায়িত্ববান হতে হবে।
৬. প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে এবং শ্রেণির শৃঙ্খলা বাজায় রাখতে হবে।
৭. ছুটির পূর্বে অভিভাবক ছাড়া কোনো ছাত্র/ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠান ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন থেকে টিফিন ক্রয় করতে পারবে তবে/নিজ টিফিন ও খাবার পানি সঙ্গে আনা উত্তম। টাকা/পয়সা ব্যাগে না রেখে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে।
৮. সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে প্রাণবন্ত থাকতে হবে।
৯. শ্রেণিকক্ষে টিফিনের অবশিষ্টাংশ, পেন্সিল কাটার অবশিষ্টাংশ বা কোনো প্রকার ছেঁড়া কাগজপত্র ফেলা যাবে না।
১০. সর্বদা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষ ও স্কুলের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১১. প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পদ কোনো ছাত্র/ছাত্রী নষ্ট করলে তার ক্ষতিরপূরণ দিতে হবে।
১২. শ্রেণিশিক্ষকের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ছাত্র/ছাত্রীর শ্রেণিকক্ষে উচ্চতা অনুযায়ী অর্থাৎ ছোটোরা সামনে ও বড়োরা পেছনে বসবে। তবে নবম থেকে দ্বাদশ শেণি পর্যন্ত ভিন্ন আসন-বিন্যাস প্রচলিত থাকবে।
১৩.প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর সমাবেশে যোগদান বাধ্যতামূলক। যৌক্তিক কারণ ছাড়া বিনা অনুমতিতে সমাবেশে উপস্থিত না থাকলে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত বলে গণ্য হবে।
১৪.সমাবেশ শেষে লাইন ধরে শ্রেণিকক্ষে যাবে এবং ক্লাস শেষে সুশৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করবে।
১৫. টিফিন শেষে ওয়ার্নিং বেল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হবে।
১৬. কোনো ছাত্র/ছাত্রী প্রথম পিরিয়ডে ও টিফিনের পরের পিরিয়ডে এবং শেষ পিরিয়ডে ক্লাসের বাইরে যেতে পারবে না। তবে অন্যান্য পিরিয়ডে শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে কেবল ১জন করে পর্যায়ক্রমেপ্রয়োজনানুযায়ী ওয়াশরুমে বা অন্যান্য কাজে বাইরে যেতে পারবে।
১৭. অকারণে কোনো ছাত্র/ছাত্রী বারান্দায় চলাফেরা করতে পারবে না।
১৮. কোনো ছাত্র/ছাত্রী কোনো কারণে অসুস্থ থাকলে ঐ দিন প্রতিষ্ঠানে আসার প্রয়োজন নেই। তবে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী দিন অভিভাবকের স্বাক্ষর সংবলিত আবেদনপত্রসহ ক্লাসে আসতে হবে।
১৯. ক্লাস সময় ব্যতীত ছাত্র/ছাত্রীরা লাইব্রেরি ওয়ার্ক করবে।
২০. ছাত্র/ছাত্রীদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি প্রতিষ্ঠানে আনা যাবে না।
২১. কোনো ছাত্র/ছাত্রী শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে যথাবিহিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২২. পরীক্ষার অসদুপায় অবলম্বন অমার্জনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বিধান :
১.শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক প্রবেশের সময় ছাত্র/ছাত্রীরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করবে।
২. শিক্ষকের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ার ছাত্র/ছাত্রীরা ব্যবহার করতে পারবে না।
৩. শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া বোর্ডে কিছু লেখা যাবে না। বেঞ্চে কোন কিছু লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. শ্রেণিকক্ষের দেয়াল নোংরা করা যাবে না। দেয়ালে কোনো কিছু লেখা যাবে না।
৫. ব্যাগ ও বই সুন্দরভাবে বেঞ্চে রাখতে হবে।
৬. শ্রেণিকক্ষের মেঝে নোংরা করা যাবে না। খাবারের অবশিষ্টাংশ, চিপসের প্যাকেট, ঠোংগা ইত্যাদি মেঝেতে ফেলা যাবে না।
৭. শ্রেণিকক্ষে উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা বলা ও শোরগোল করা যাবে না।
৮. শ্রেণিকক্ষে প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রী একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যমূলক আচরণ করবে এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখবে।
৯. ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে অহেতুক কথাবার্তা ও শব্দ সৃষ্টি করে শিক্ষকের পাঠদান বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে